থ্যালাসেমিয়া

এই পোস্টে পড়ুন: English العربية 'তে

থ্যালাসেমিয়া কি?

থ্যালাসেমিয়া হল একটি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত রক্ত জনিত ব্যাধি যা, রোগীর দেহে হিমোগ্লোবিনের অপর্যাপ্ত পরিমাণ অথবা অস্বাভাবিক গঠন প্রকৃতি তৈরি করে। লোহিত রক্ত কণিকার মধ্যে স্থিত হিমোগ্লোবিন শরীরের মধ্য দিয়ে অক্সিজেন বহন করে। থ্যালাসেমিয়ার ফলে বিপুল সংখ্যক লোহিত রক্তকণিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, রোগীর মধ্যে রক্তাল্পতার সৃষ্টি করে।

থ্যালাসেমিয়া হল একটি জিনগত ব্যাধি। থ্যালাসেমিয়া ডিএনএর কোষগুলির অভিযোজন এর কারনে ঘটে যা হিমোগ্লোবিন তৈরি করে এবং এগুলি পিতামাতার কাছ থেকে শিশুদের/সন্তানদের মধ্যে প্রেরিত হয়।
হিমোগ্লোবিনের গঠন প্রকৃতি নির্মাণে দুটি প্রোটিন জড়িত থাকে। উদাহরণস্বরূপ আলফা এবং বিটা প্রোটিন। থ্যালাসেমিয়ার প্রকার গুলি এই দুটি প্রোটিন এর উপর নির্ভর করে। আলফা থ্যালাসেমিয়া মানে হল শরীরে আলফা হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি রয়েছে এবং বিটা থ্যালাসেমিয়া তখন ঘটে যখন শরীরে বিটা হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি থাকে।

থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি

থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি নিম্নলিখিত

  • ক্লান্তি
  • দুর্বলতা
  • ভঙ্গুর হার
  • খিদে না হওয়া
  • ফ্যাকাশে অথবা হলুদ ত্বক
  • জন্ডিস
  • তলপেটে ফোলা ভাব
  • গাঢ় প্রস্রাব
  • শিশুর বিলম্ব বৃদ্ধি
  • হৃদপিন্ডের সমস্যা

থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্ণয়

থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্ণয়ের জন্য ডাক্তারেরা পরামর্শ দেন

সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট/সম্পূর্ণ রক্ত কণিকা গণনা) এবং হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষা

জন্মের পূর্ববর্তী পরীক্ষাগুলি :

শিশুর থ্যালাসেমিয়া আছে কিনা তা জানবার জন্য শিশুর জন্মের আগে কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়। এ পরীক্ষাগুলি হল :

  • কোরিওনিক ভিলাস নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়নের জন্য প্লাসেন্টার অতি ক্ষুদ্র অংশের অপসারণ করা হয় এবং এই পদ্ধতিটি সাধারণত গর্ভাবস্থার ১১ তম সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হয়।

 

  • অ্যামনিওসিন্টেসিস, অ্যামনিওটিক তরলের নমুনা গ্রহণের সাথে সম্পর্কিত যা ভ্রূণকে ঘিরে থাকে এবং এই পদ্ধতিটি সাধারণত গর্ভাবস্থার ১৬ তম সপ্তাহে করা হয়।

থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসার পদ্ধতি

থ্যালাসেমিয়া হালকা লক্ষণ এর ক্ষেত্রে কোনরকম চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। থ্যালাসেমিয়ার জটিলতার লক্ষণগুলি থাকলে মাঝেমধ্যে রক্তের স্থানান্তর এবং অস্ত্রোপ্রচারের প্রয়োজনীয়তা হতে পারে। মাঝারি থেকে গুরুতর থ্যালাসেমিয়ার জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। চিকিৎসার বিকল্পগুলি হল :

ব্লাড ট্রান্সফিউশন (রক্তের স্থানান্তর)

থ্যালাসেমিয়ার গুরুতর লক্ষণগুলি উপস্থিত থাকলে বছরে আট থেকে বারোটি ব্লাড ট্রান্সফিউশন বা রক্তের স্থানান্তর বা পরিবর্তন প্রয়োজন।

আয়রন ক্লিয়েশন থেরাপি

রক্তপ্রবাহ থেকে অতিরিক্ত আয়রন সরিয়ে নেওয়ার জন্য আয়রন ক্লিয়েশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় যা মূলত ব্লাড ট্রান্সফিউশন বা রক্তের স্থানান্তর এর মাধ্যমে ঘটে এবং এর দ্বারা হৃদপিণ্ড এবং অন্যান্য অঙ্গ গুলির ক্ষতি হতে পারে।

বোন মেরো ট্রানস্প্লান্ট (অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন)

বোন ম্যারো (অস্থিমজ্জা) অথবা স্টেম সেল (একটি এমন ধরনের কোষ যা এক ধরনের উন্নত কোষের তৈরি করে এবং পরবর্তীকালে খারাপ হয়ে যাওয়া কোষগুলিকে সারিয়ে তোলে) স্থানান্তর হল অস্থিমজ্জা অথবা স্টেম সেলের প্রতিস্থাপন যা সাধারণত একজন সক্ষম ডোনার (দাতার) থেকে নেওয়া হয় যা সাধারণত একই পিতা মাতার সন্তান হয়। এই প্রক্রিয়াটি আজীবন রক্তের পরিবর্তন এবং ওষুধ গ্রহণের ব্যবস্থাটিকে বাদ দিয়ে অতিরিক্ত আয়রনের সমস্যাকে নিয়ন্ত্রিত করে।

সার্জারি (শল্য চিকিৎসা)

হাড়ের অস্বাভাবিকতাকে সংশোধন করার জন্য সার্জারি বা শল্য চিকিৎসা করা হয়।

যোগাযোগ করুন

জিনজার স্বাস্থ্যসেবা ভারতে চিকিত্সার জন্য নিখরচায় গাইডেন্স এবং সহায়তা সরবরাহ করে। ভারতে ভাল চিকিত্সার অভিজ্ঞতা পেতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

contact us-small

Blog Posts...